পিয়ালী মিত্র ও বিক্রম দাস: মধ্য়মগ্রামে নিজের ফ্ল্যাটে যাওয়ার পথে দোহাড়িয়ায় আততায়ীদের গুলিতে ঝাঁঝরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। একবারে নিখুঁত পরিকল্পনায় কাজ হাসিল করে উধাও হয়ে যায় আততায়ীরা। এর মধ্যে উঠে আসছে একটি গাড়ির কথা। এই গাড়িটিই পথ আটকেছিল চন্দ্রনাথের এসইউভির।
আর গাড়ি দাঁড়াতেই চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেয় আততায়ীরা। তারপর তারা বাইকে চড়ে পালিয়ে যায়।
যে স্টিল কালারের গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকেছিল সেটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এখন দেখা যাচ্ছে সেই গাড়ির নম্বর প্লেটটি ভুয়ো। সেই নম্বরের গাড়িটি শিলিগুড়ির রেজিস্ট্রেশন। যে ব্যক্তির ওই গাড়ি সেটি তাঁর বাড়িতেই রয়েছে। সেটির সঙ্গে চন্দ্রনাথের উপরে হামলার গাড়ির মডেল ও রং একেবারেই এক। জানা যাচ্ছে হামলার আগে বিকেলের দিকে এয়ারপোর্টের কাছে দেখা গিয়েছিল ওই গাড়িটিকে। তারপর সেটি মধ্যমগ্রামের কোনও একটি জায়গায় অপেক্ষা করে। তারপর চন্দ্রনাথকে ঠাক জায়গায় পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে গুলি চালিয়ে দেয়। তারপর আগে থেকে ঠিক করে রাখা বাইকে চড়ে পালিয়ে যায়। অর্থাত্ আগে থেকেই একজিট রুট ঠিক করা ছিল। এখন সিসিটিভির ফুটেজ দেখে বের করার চেষ্টা চলছে কোন রুটে পালিয়ে গেল হামলাকারীরা।
এদিকে, ওই গাড়িটি নিয়ে তদন্ত করতেই বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্য়কর তথ্য। সাধারণভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট ভুয়ো হলেও তার চেসিস নম্বর দেখে গাড়ি চিহ্নিত করা যায়। এখন চন্দ্রনাথ খুনে ব্য়বহৃত গাড়িটির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র গাড়িটির নম্বর প্লেট নকল করাই নয়, গাড়ির চেসিস নম্বর ও ইঞ্জিন নম্বরও বিকৃত করা হয়েছে। অর্থাত্, খুনের জন্য পরিকল্পনা করে হয়েছিল একেবারে নিখুঁতভাবে।
রামকৃষ্ণ মিশনের উজ্জ্বল ছাত্র-প্রাক্তণ বায়ুসেনা কর্মী, শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী কে এই চন্দ্রনাথ?
সিসিটিভির ফুটেজে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু, শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনে ব্যবহৃত গাড়ি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অন্যদিকে, চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় সুপারি কিলারদের কাজে কাজে লাগানো হয়, এনিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিস। এমনটাই সূত্রের খবর। চন্দ্রনাথের গাড়িটিকে ঘিরে ধরে দুদিক থেকে গুলিবৃষ্টি করা হয়। অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে অন্তত দুজন গুলি চালায়। সূত্রের খবর, দুটো বাইক আধ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিল। তিন জন ছিল দুটো বাইকে। গাড়ি এসে রাস্তা আটকায় । তারপর ওই গাড়ির চালক ও গুলি চালানোর পর চারজন ২ বাইকে চড়ে দুদিকে চলে যায়।
মধ্যমগ্রামের ঘটনার সঙ্গে শক্তিগড়ে কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁ খুনের ঘটনাতেও একই রকম মোডাস অপারেন্ডই দেখা গিয়েছিল। সেখানেও চোরাই গাড়ীতে একই ভাবে সেম মডেলের অন্য গাড়ির নাম্বার প্লেট ব্যবহার করে অততায়ীরা । চেসিস নাম্বার টাম্পের করা হয়। সেখানেও পালানোর জন্য গ্রামের রাস্তায় তৈরি রাখা ছিল মোটর বাইক। রাজু ঝা খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল প্রফেশনাল সুপারি কিলার। গোটা ঘটনা অপারেট করা হয়েছিল ভিন রাজ্যের সুপারি কিলারদের দিয়ে।

