চিত্তরঞ্জন দাস: ছোট্ট দু'হাত দিয়ে কেউ শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে স্যারের হাত। কেউ গলা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। একটাই অনুরোধ, একটাই আবদার, "স্যার, আপনি যাবেন না। আপনি যাবেন না স্যার।" একটাই দাবি, "আমরা যেতে দেব না স্যারকে।" ছোট্ট মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুড়ে গলার শিরা ফুলিয়ে স্লোগান উঠছে, "শিরায় শিরায় রক্ত সন্দীপ স্যারের ভক্ত।"
মন আকুল করা ঠিক এমনই ছবি, এমনই মুহূর্ত। "তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দেব না", রবি ঠাকুরের লেখা এই গান-ই যেন বারবার ফিরে আসছিল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খুদে পড়ুয়াদের চোখের জল আর কণ্ঠের আকুতিতে ঝরে পড়ছিল স্যারের বিদায় আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা। প্রিয় শিক্ষক সন্দীপ কর্মকারের বদলির খবর যেন তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। ছোট্ট দু'হাত দিয়ে কেউ শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে স্যারের হাত। কেউ আবার গলা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। একটাই অনুরোধ, "স্যার, আপনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন না।"
মঙ্গলবার সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের শ্রীরামপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে তৈরি হয় এমনই এক আবেগঘন পরিবেশ। বদলির খবর গ্রামে পৌঁছাতেই অভিভাবক, প্রাক্তন পড়ুয়া এবং গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন স্কুলে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, গ্রামবাসীরা বিদ্যালয়ের গেট বন্ধ করে দেন। তাঁদের একটাই দাবি, যে শিক্ষক বছরের পর বছর ধরে এই বিদ্যালয়কে নিজের পরিবারের মতো আগলে রেখেছেন, যিনি শুধু পড়াশোনা নয়, শিশুদের মানুষ করে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাঁকে কোনওভাবেই এই স্কুল থেকে সরানো যাবে না।

১৫ বছর ধরে এই স্কুলে রয়েছেন তিনি। সন্দীপ কর্মকার শুধু একজন শিক্ষক নন, স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন অভিভাবক, একজন পথপ্রদর্শক। বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা কম থাকায় প্রায় সব বিষয়ই পড়াতেন তিনি। অভিভাবকরা বলছেন, কোনও পড়ুয়া পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়লে আলাদা সময় দিতেন। কেউ স্কুলে না এলে তার বাড়ির খোঁজ নিতেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, পড়াশোনার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
অভিভাবক বৈশাখী মণ্ডল বলেন, "ছোট থেকেই সন্দীপবাবু আমাদের বাচ্চাদের যত্ন সহকারে পড়িয়েছেন। খুব ভালোবাসেন বাচ্চাদের। আজ সেই শিক্ষকের বদলির খবর পেয়ে আমরা এসেছি। এই স্কুল সেজে উঠেছে তার হাতের ছোঁয়ায়। আমরা শিক্ষককে কোনওভাবেই যেতে দেব না।" এক পড়ুয়া দেবব্রত রায়ের কথায়,"আমরা শুনছি স্যার বুধবার চলে যাবেন। কিন্তু আমরা যেতে দেব না । আমাদের এত ভালোবাসেন, আমাদের এত ভাল করে পড়ান, তাই উনি চলে যাবেন, এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না, আমরা ধরে রাখব স্যারকে।"
পেটের যন্ত্রণায় বাদ হাত! ইনজেকশন দিতেই গোটা হাত... স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভয়ংকর ঘটনা
নিমন্ত্রণ করা সত্বেও বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা! বিপাকে নিমন্ত্রিতরা
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

