জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো:গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-- এই দুই দ্রাবিড় দলেরই আধিপত্য ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই 'দুর্গ' ভেঙে দিয়েছেন তামিল সুপারস্টার বিজয়। তাঁর দল TVK ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
এই অবস্থায় বিজয়ের সরকার গড়া আটকাতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে কোনও গোপন সমঝোতা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
ডিএমকে-এআইএডিএমকে 'গোপন আঁতাত'
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বিজয় অভিযোগ করে আসছিলেন যে, তাঁকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে গোপনে হাত মিলিয়েছে। তিনি একে একটি 'পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র' হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
বিজয়ের দাবি: দুই দল একে অপরকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করলেও তলে তলে তারা চায় যে পর্যায়ক্রমে কেবল তারাই যেন ক্ষমতায় থাকে। নতুন কোনো শক্তি বা বিকল্প রাজনীতিকে তারা জায়গা দিতে নারাজ।
বর্তমান পরিস্থিতি: ডিএমকে এবার মাত্র ৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন তাঁর নিজের কেন্দ্র কোলাথুর-এ বিজয়ের দলের কাছে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন।
কংগ্রেসের সমর্থন
১১৭টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে বিজয়কে আরও কিছু বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে:
কংগ্রেসের চমক: দীর্ঘ দুই দশকের পুরনো সম্পর্ক ছিন্ন করে কংগ্রেস (৫টি আসন) বিজয়ের দল TVK-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে বিজয়ের পক্ষে সমর্থনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩।
বাম ও অন্যান্য দল: ভিচিক (VCK) এবং বাম দলগুলো (CPI, CPM) এখন কোন দিকে যায়, তার ওপর নির্ভর করছে সরকার গঠন। বিজয় ইতিমধ্যেই তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
এআইএডিএমকে-র অবস্থান
বুধবার (৬ মে) এআইএডিএমকে-র ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি কে.পি. মুনুস্বামী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা কোনোভাবেই বিজয়ের সরকারকে সমর্থন করবেন না। দলের সাধারণ সম্পাদক ইদাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী (EPS) নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, দলের একটি অংশ বিজয়কে সমর্থনের পক্ষে থাকলেও, শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে দোদুল্যমান।
ডিএমকে-র প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেসের এই 'পিঠে ছুরি মারা' আচরণে ডিএমকে নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ। কানিমাঝি এনভিএন সোমু জানিয়েছেন যে, দুর্দিনেও ডিএমকে কংগ্রেসের পাশে ছিল, কিন্তু কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ডিএমকে এখন চেষ্টা করছে অবশিষ্ট ছোট দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে রেখে বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আটকানোর।
রাজ্যপালের ভূমিকা
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার ইতিমধ্যেই ১৬তম বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিজয় তাঁর কাছে সরকার গড়ার দাবি পেশ করেছেন। রাজ্যপাল জানিয়েছেন, তিনি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আগামী এক-দু'দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তামিলনাড়ুর মানুষ এখন এক বিশাল ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী। দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনীতি কি চিরতরে শেষ হয়ে যাবে, নাকি বিজয়ের উত্থান ঠেকাতে চিরশত্রু ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে তলে তলে এক হবে-- সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে তামিল রাজনীতিতে এক নতুন 'সুপারস্টার' যুগের সূচনা হবে।
১০৮টি আসন জিতে বিজয় এখন মধ্যমণি। কংগ্রেসের সমর্থন মেলায় তাঁর পাল্লা ভারী হলেও, ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র পরবর্তী পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর আগামীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
Operation Kisan: কৃষকের ইউরিয়া চুরি করে প্লাইউড বানাচ্ছে কারখানা, ২০ হাজার কোটির কেলেঙ্কারি ফাঁস

