জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা ফের প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা। তবে তাঁর দাবি, দেশে ফেরার লক্ষ্য ক্ষমতা দখল বা রাজনৈতিক পদে ফিরে আসা নয়। বরং বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তিনি দেশে ফিরতে চান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক পরিসর, মানুষের অধিকার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ফিরে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বার্তা
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়া, উগ্রপন্থার বাড়বাড়ন্ত, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের সম্পর্ক সত্য বলার কারণে নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সেই সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি হয়। তাঁর মতে, স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তিস্তা নিয়ে কী বললেন হাসিনা?
সাক্ষাৎকারে তিস্তা প্রসঙ্গও উঠে আসে। হাসিনা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর শেষ বৈঠকে তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পে চিনের সঙ্গে কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মত তাঁর। হাসিনা বলেন, তিস্তা নিয়ে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার কথা তাঁরা আলোচনা করেছিলেন, এখন বাংলাদেশ সরকার কী করছে সে বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।
চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন
বাংলাদেশের চিনের সঙ্গে বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসিনা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, সার ঘাটতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির মতো সমস্যায় রয়েছে, তখন ২.৩ বিলিয়ন ডলারে চিনের কাছ থেকে J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
প্রত্যর্পণ নিয়ে হাসিনার বক্তব্য
হাসিনার বক্তব্য, তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তিকে সামনে আনা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও কোন পথে দেশে ঢুকবেন, তা পরে জানাবেন। তবে বাংলাদেশে তাঁর ফেরার বিষয়টি এখনই সহজ নয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে ফেরানোর জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও তাঁকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে অবস্থান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৪ সালের অগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতেই রয়েছেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে বারবার জল্পনা তৈরি হয়েছে। এ বার তিনি নিজেই ডিসেম্বরে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দেশের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষই ঠিক করবেন।
এদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের 'ফেরার' বার্তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের কী প্রভাব পড়বে-এখন নজর সেদিকেই।
আদিয়ালা জেল থেকে ইমরানের বড় আপডেট: কাপ্তানের জন্য কেঁপে গেল পাকিস্তান
নেপাল-বিপর্যয় নিয়ে বিরাট মন্তব্য সদগুরুর! বললেন, হিমালয় আপনার রাজনীতি ও ভাষা

