তথাগত চক্রবর্তী: দলবল নিয়ে ভেড়ি থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন খোদ পুরসভার কাউন্সিলর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজপুর সোনারপুর পুরসভা এলাকায়। ধৃত কাউন্সিলরের নাম বরুণ সরকার। তিনি ওই পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। মাছ চুরির অভিযোগে শনিবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরবেলা দলবল ও লোকজন নিয়ে এলাকারই একটি মাছের ভেড়িতে চুরির উদ্দেশ্য যান কাউন্সিলর বরুণ সরকার। অভিযোগ, ভেড়ি থেকে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ মাছ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। সেই সময় বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে চলে আসে। বেগতিক বুঝে এলাকাবাসীরা একজোট হয়ে ভেড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং কাউন্সিলরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোরবেলাই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রাই খবর দেন পুলিসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিস বাহিনী। উত্তেজিত জনতার ঘেরাও থেকে কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে, ভেড়ির মালিক ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চুরির সুনির্দিষ্ট মামলায় কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে পুলিস।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে উত্তর দমদমে মাছ চোর নিয়ে হইচই পড়ে যায়। জানা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা ও বেলঘড়িয়ার সীমান্তকে ভাগ করে নন্দননগর নামে একটি অঞ্চল। বলা চলে ওই অঞ্চলের একটি ঝিল। সেই ঝিলে মাছ চাষ করেন উত্তর দমদম পুরসভার পুরপ্রধান বিধান বিশ্বাস।
Dumdum Mach Chor: ভোটের ফল বেরোতেই ঝিলে ঝাঁকে ঝাঁকে 'মাছ চোর', সর্বস্বান্ত পুরপ্রধান
বিধানবাবুর অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর লিজ নেওয়া ওই ঝিলে ব্যাপক লুটপাট চালানো হচ্ছে। প্রথম কয়েকদিন তিনি চুপ ছিলেন। সূত্রের খবর,তার সেই ঝিলে ভেটকি,চিতল,রুই সব ধরনের মাছের চাষ করা হয়। পুরপ্রধানের অভিযোগ, প্রথম কয়েকদিন তিনি চুপ ছিলেন। কিন্তু দিন যত বাড়ে বাইরে থেকে লোক এসে ঝিলে লুটপাট চালাতে থাকে। শেষমেশ তিনি প্রশাসনের দারস্থ হন। রাজনীতির ময়দানে থাকা 'মাছ চোর'হেরে কার্যত বিদায় নিয়েছেন। এখন দেখার যারা সত্যিকারের মাছ চুরি করছে বলে অভিযোগ তারা কতদিনে প্রশাসনের হাতের বাইরে থেকে যায়।
বিধান বিশ্বাস বলেন, খবর নিলেই জানতে পারবেন, ছোটবেলা থেকেই আমার মাছের ব্যবসা। এটাই আমার জীবিকা। দমদমে শুধুমাত্র একটা ঝিল নয়, বহু ঝিল লুট করা হয়েছে। প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে। নিমতা থানায় এনিয়ে এফআইআর করেছি। আরও যেসব জায়গায় চিঠি দেওয়ার তা দেব। মালিকদের টাকা দিয়ে ঝিল লিজে নিয়েছি। বহু বছর ধরে চাষ করছি। উত্তর দমদমের সবাই জানে বিধান বিশ্বাসের মাছের ব্যবসা। যারা এসব করছে তাদের বলব রাজনৈতির বিরোধিতা থাকলে তা রাজনীতি দিয়ে মোকবিলা করো। কিন্তু যে দলেরই হোক না কেন কাউকে পেটে মারা উচিত নয়।

