জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিহারে ফের একটি বড়সড় রেল দুর্ঘটনা এড়ানো গেল রেলকর্মীদের সময়োপযোগী পদক্ষেপে। সোমবার সকালে পূর্ব-মধ্য রেলের সমস্তিপুর-সহরসা রুটে একটি চলন্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎই দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো স্টেশন এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
তবে রেলকর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত বগিগুলো ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন করায় কোনো বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
কীভাবে ছড়াল আতঙ্ক?
সমস্তিপুর থেকে সহরসা অভিমুখী (63344) ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনে বিহারের সহরসা জেলার অন্তর্ভুক্ত সিমরি বখতিয়ারপুর রেলওয়ে স্টেশনে সোমবার সকালের দিকে ট্রেনটি যখন স্টেশনে প্রবেশ করছিল, ঠিক তখনই এই বিপত্তি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেনটি সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সময় হঠাৎই ইঞ্জিনের ভেতরের অংশ থেকে বিকট শব্দে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া তীব্র আকার ধারণ করে এবং আগুনের শিখা বাইরে বেরিয়ে আসে। ইঞ্জিনে আগুন লাগার বিষয়টি দেখতে পেয়েই প্ল্যাটফর্মে থাকা অপেক্ষারত যাত্রী এবং ট্রেনের ভেতরের থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে কামরা থেকে হুড়োহুড়ি করে নেমে কাঁদতে ও ছোটাছুটি করতে থাকেন বহু যাত্রী।
রেলকর্মীদের তৎপরতা ও অলৌকিক রক্ষা
ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়ালেও লোকো পাইলট এবং স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মীরা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে অত্যন্ত সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। আগুন যাতে যাত্রীবাহী কোচে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তাই দ্রুততার সঙ্গে জ্বলন্ত ইঞ্জিনটিকে পেছনে থাকা যাত্রীবাহী বগিগুলো থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। কামরায় থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে আনা হয়। স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে লোকাল ফায়ার ব্রিগেড ও রেলওয়ে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। স্থানীয় বাসিন্দা ও রেল কর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ইঞ্জিনের আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। রেল সূত্রের খবর- কোনও যাত্রী বা রেলকর্মী আহত হননি। সব যাত্রী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন। দুর্ঘটনার জেরে ওই রুটে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। লাইন পরিষ্কার করার পর ধীরে ধীরে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত
ইঞ্জিনে কীভাবে আগুন লাগল, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- শর্ট সার্কিট বা ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ কোনো যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। পূর্ব-মধ্য রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইঞ্জিনের টেকনিক্যাল মেইনটেনেন্সে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

