অর্ণবাংশু নিয়োগী: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় জড়িয়ে আইনি জটিলতার মুখে পড়লেন কলকাতা পুরনিগমের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে আজ, বৃহস্পতিবার আলিপুর পুলিস কোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
পঞ্চসায়র থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR)-এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই আইনি পদক্ষেপ বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার পর কলকাতার পঞ্চসায়র থানা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, মূলত তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই এলাকার বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, বিদায়ী কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ও তাঁর অনুগামীদের নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনার পর আক্রান্ত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে পঞ্চসায়র থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিস।
নিজেদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে আজ তিনি আলিপুর পুলিস আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন জানান।
তাঁর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং কালিমালিপ্ত করতেই তাঁর মক্কেলের নাম এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে আদালত এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সম্প্রতি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুন্দপুরের ওয়ার্ড অফিসটিকে ঘিরেও তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের একাংশ সম্প্রতি ওই অফিসে বিক্ষোভ দেখায় এবং সেখান থেকে পুরসভার নিয়োগের তালিকা সম্বলিত ডায়েরি ও ত্রাণের বিপুল সামগ্রী উদ্ধারের দাবি তোলে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সেটি কর্পোরেশনের অফিস এবং গত ৮ জুনের পর থেকে তিনি সেখানে যাননি।
দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুর এলাকায় তাঁর হাতিবাড়ি নিয়েও কম বিতর্ক নেই। রাস্তার উপর বিয়েবাড়ি ভেঙে বেআইনি নির্মাণ করে ৪ তলা উঁচু প্রাসাদসম বাড়ি বানিয়ে সাধারণ মানুষের চক্ষুশূল হয়েছেন। মাসিক ভাতা ১০০০০ টাকায় কী ভাবে এই বাড়ি, এই বিলাস ব্যসন তা সহজেই হয়ত অনুমেয় সবার কাছে। অরুপ বিশ্বাসের অত্যন্ত কাছের মানুষ হওয়ায় কি তাঁর এই জীবন? উঠছে প্রশ্ন।
আপাতত পঞ্চসায়রের বাড়ি ভাঙচুর ও হামলা সংক্রান্ত মামলার জল কতদূর গড়ায় এবং আলিপুর আদালত বিদায়ী কাউন্সিলরের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে কি না, সেটাই দেখার।

