জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সমাজ ও আইনব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন। অসম বিধানসভায় বহুল আলোচিত 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' বা ইউসিসি (Uniform Civil Code) বিল পাস হয়েছে। বিজেপির নেতৃত্বাধীন অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করেছিল। গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে বিলটি পেশ করেন রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা।
এর মাধ্যমে অসম হল ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রথম রাজ্য, যেখানে এই আইন পাস হল। এছাড়া উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের পর অসম দেশের তৃতীয় বিজেপি-শাসিত রাজ্য হিসেবে এই পদক্ষেপ নিল। ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই আইন চালু করা।
কী আছে এই নতুন আইনে? নতুন এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হল, অসমের সমস্ত নাগরিকের জন্য সমান আইন তৈরি করা। ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলবে।
বহুবিবাহ নিষিদ্ধ: অসমে এখন থেকে 'বহুবিবাহ' বা একের বেশি বিয়ে করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিয়ের নিবন্ধন: বিয়ে হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা সরকারিভাবে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
লিভ-ইন সম্পর্কের নিয়ম: কোনও ছেলে ও মেয়ে যদি বিয়ে না করে একসঙ্গে থাকতে চান (লিভ-ইন রিলেশনশিপ), তবে সম্পর্ক শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সরকারকে তা জানাতে হবে এবং নিবন্ধন করতে হবে।
শাস্তি ও জরিমানা: কেউ যদি ইচ্ছা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিয়ে বা বিবাহবিচ্ছেদ রেজিস্ট্রি না করেন, তবে তাকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।
বিরোধীদের আপত্তি
বিলটি যখন বিধানসভায় আনা হয়, তখন বিরোধী দলের নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা দাবি করেছিলেন যে, বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে আরও ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হোক। এই নিয়ে বিধানসভায় বেশ হট্টগোলও হয়। তবে সব বাধা পেরিয়ে সরকার বিলটি পাস করতে সফল হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে এবং নারীদের আইনি সুরক্ষা দিতেই এই নিয়মগুলো আনা হয়েছে। এই নতুন আইন অসমের সামাজিক জীবনে এক বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

