পিয়ালী মিত্র: আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। এবার কমিশনের বিশেষ নজরে 'ভিআইপি রাউডি'রা (VIP Rowdy)। সোমবার রাজ্যের সমস্ত জেলা ও পুলিস কমিশনারেটের কর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন কমিশনের আধিকারিকরা। সেই বৈঠকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের সময় অশান্তি ছড়াতে পারে এমন কোনো প্রভাবশালীকেই রেয়াত করা হবে না।
চিহ্নিত করা হচ্ছে 'ভিআইপি গুন্ডা'
বৈঠক সূত্রে খবর, প্রতিটি থানা এলাকা থেকে অন্তত ১০ জন করে 'ভিআইপি গুন্ডা' চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতিটি নির্বাচনের আগেই পুলিস গোলমাল পাকাতে পারে এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে এবং তাদের থেকে মুচলেকা (Bond) আদায় করে। কিন্তু এবার সেই তালিকায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এলাকার তথাকথিত 'প্রভাবশালী' এবং 'ভোট কারিগর'দের ওপর।
SIR Voter List: ফ্রিজ় হল ভোটার লিস্ট, SIR কোপে রেকর্ড ছাঁটাই: কোন জেলায় বাদ কত নাম?
কমিশন সরাসরি 'VIP Rowdy' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে তা স্পষ্ট না করলেও, সূত্রের দাবি তালিকায় রয়েছেন-- যারা পর্দার আড়ালে থেকে ভোট পরিচালনার নামে পেশ পেশিশক্তি ব্যবহার করে। যাদের এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দাপট রয়েছে। যারা ভোটের আগে বা ভোটের দিন এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে সিদ্ধহস্ত।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন চাইছে ভোটের দিন বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে। চিহ্নিত ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি, তাদের বিরুদ্ধে আগেভাগেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে এরা বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিচারাধীন ভোটারদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত রিপোর্টে প্রথমবার যোগ্য ও অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত ভোটারদের জেলাভিত্তিক বিশদ তথ্য সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারকে যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, অন্যদিকে প্রায় ২৭ লক্ষের কাছাকাছি নাম অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ গিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারকে যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, অন্যদিকে প্রায় ২৭ লক্ষের কাছাকাছি নাম অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ৬৩ লক্ষের বেশি। আর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর আরও ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেল।

