নান্টু হাজরা: যাদবপুর ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি, দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও রাজ্য রাজনীতি-বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পরিচিত তীক্ষ্ণ ও চাঁচাছোলা ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রের পরিবেশ পরিবর্তন, রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।
যাদবপুরে দুই দল ছাত্র সংঘর্ষ ক্যাম্পাস রাজনীতি কে আবার হিংসার জায়গা হচ্ছে?
পরিবর্তন হলে কিছু নড়াচড়া শব্দ টব্দ হয়, আমার মনে হয় আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছু তো পরিবর্তন হওয়ার দরকার আছে। যাদবপুর একটা একসেপশনাল একটা আইল্যান্ডের মতো। ওখানে যারা আন্দোলন করে, রাজনীতি করে তারা ভাবে ভারতবর্ষের বাইরের কোনও একটা জায়গা। ভারতবর্ষের সংবিধান চলবে না, ভারতবর্ষের রীতিনীতি চলবে না কথাবার্তা স্লোগান চলবে না, বিদেশি স্লোগান চলবে এটাতে বেশি দিন চলতে পারেনা। কিছু তো পরিবর্তন হবেই শুরু হয়েছে দেখা যাক।
অধ্যাপক ভাইস চ্যান্সেলর তাদেরকে ঘেরাও করে রাখা শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়ুয়ার এই সব থেকে বেরিয়ে আসবে কবে ?
এই কালচার রক্তের মধ্যে চলে গেছে। আর যারা এটা অপারেট করে তারা ভাবছে, এরকমই চলবে দুনিয়া পাল্টে গেল। ভারতের বহু জায়গা পাল্টে গেছে। জেএনইউ যেখান থেকে অনুপ্রেরণা এই এরা করেন এখানে পরিবর্তন দিল্লি ইউনিভার্সিটি এর মতো আসমানি ইউনিভার্সিটির সব পাল্টে গেছে এখানে শেষ লড়াইটা চলছে। দেশবিরোধী গতিবিধির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এখানে। তার পরিবর্তন চাই।
অমিত সাহা মুখ্যমন্ত্রী কে পাশে বসিয়ে বন্ধু বলে সম্মোধন করলেন?
এর আগেও বলেছেন মেরে মিত্র, এটা তো রাজনীতিতে প্রচলিত কথা সবাইকেই বলেন। একসঙ্গে এত বছর কাজ করলে বন্ধুত্ব হয়েই যায়। এটাতো টিএমসি নয় যে কর্মচারী আর মালিকের সম্পর্ক। পার্টিতে আমরা সবাই বন্ধু সম সহকর্মী পার্টি যাকে যে নেতৃত্বে বসেছে সে সেই দায়িত্ব পালন করছে বাকিটা একটা পরিবারের মত আমরা সবাই।
শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এবার ইউপি এ ধারা লাগু হচ্ছে এনআইএ বিশেষ আদালতে তার আবেদনও জানিয়েছে ?
অবশ্যই লাভ হওয়া উচিত যেভাবে তার নেতৃত্বে মাননীয় নাগরাজির উপর অ্যাটাক হয়েছিল মগরাহাটে। সেই ইতিহাস সেই ভিডিয়ো আপনাদের কাছে আছে। প্রায় পরিকল্পিতভাবে হাজার লোক নিয়ে গিয়ে একজন এমপি বিশ্বের একটা বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান তার উপর জীবনঘাতি আক্রমণ করছে নিশ্চয়ই তো কিছু তদন্ত হওয়া উচিত।
গেরুয়া উত্তরীয় পড়ে বিধানসভায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কুণাল ঘোষ, তাহলে কি কুণাল ঘোষ পা বাড়িয়ে রেখেছেন?
প্র্যাকটিস করছেন বোধ হয় জানিনা কেমন লাগে গেরুয়া নীল লাল সবুজ হয়ে গেছে। গেরুয়াটা দেখা যাক কেমন হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরো একটি মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন?
রক্ষা কবচ একটা জিনিস আর সেখান থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া আলাদা জিনিস। কেস চলছে সাময়িকভাবে বিভিন্ন কারণে কোর্ট মনে করেছেন এ ব্যাপারে যেন আর বেশি কিছু না হয় । আর কত মামলায় রক্ষা কবচ পাবেন মামলা তো হয়েছে তদন্ত হবে। তদন্তি যখন রেজাল্ট আসবে আইন তখন ব্যবস্থা নেবে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পেয়ে মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়?
অভ্যাস হয়ে গেছে লক্ষী ভান্ডার নিয়ে এদের কিন্তু এটা পরিষ্কার জানা উচিত সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার অনেক প্রকল্প করেছে রাজ্য সরকারও করেছে তার একটা সীমা আছে তার জন্য টাইটেরিয়া ঠিক করা হয়েছে তার মধ্যে যারা আসবেন তারা পাবেন দান ধান সবাইকে দেওয়া হবে এই অভ্যাসটা করে দিয়েছে টিএমসি, এটা সবাইকে বুঝতে হবে এটা চলতে পারেনা।
রাহুল গান্ধী থানা থেকে শুরু করে ডিসির সমস্ত জায়গায় কালকে ধারণা দিলেন একজনকে সঙ্গে নিয়ে কিন্তু তাকে ঝাড়খন্ডে ছাত্র আন্দোলনের ওখানে আসতে দেখা গেল না।
যাইহোক দিল্লিতে সময় কাটাচ্ছেন এখন এদিক ওদিক করে ঝাড়খণ্ডে ওঁদেরই সরকার আছে, সেই সরকার যা করছে সেটা জনবিরোধী। ছাত্র বিরোধী, শিক্ষা বিরোধী এবং কোর্ট সেটা বলে দিয়েছে। সেজন্য হয়তো মুখ নেই যাওয়ার ওখানে সেই জন্যই দিল্লিতে ছবি তুলছেন।

