মৌমিতা চক্রবর্তী: ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে সরকারকে চিঠি দিলেন অভিনেতা-প্রযোজক যশ দাশগুপ্ত। লম্বা বিবৃতিতে যশ এও জানিয়েছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তিনি প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তা পেশাগত এবং আর্থিক ভাবেও। চিঠিতে যশ বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) প্রতি তাঁর আনুগত্য অবিচল ও অটুট।
অপরিবর্তনীয় গেরুয়া আস্থার কথা বললেও যশ কিন্তু বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন ওই ২০২১ সালের শেষের দিকেই।
নন্দনে দেখানো হবে অনীক দত্তের ছবি: ঘোষণা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের, কী বলছেন স্ত্রী-কন্যা?

এই প্রতিবেদনে সরকারকে লেখা যশের চিঠির প্রতিলিপির সঙ্গেই বয়ানও তুলে ধরা হল। আসুন চোখ বুলিয়ে নিন...
'আমি, যশ দাশগুপ্ত, বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা ও প্রযোজক। আমি জনজীবনেও সক্রিয়। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আমি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। নির্বাচনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর থেকে আমাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ২০২২ সালে আমারই অনুরোধে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
আমি আপনাদের অবগতির জন্য আরও জানাতে চাই যে, আমার স্ত্রী শ্রীমতি নুসরত জাহান ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও, ২০২১ সালে দলে যোগদানের পর থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অবিচল।
রাজনীতিতে আমার সক্রিয় প্রবেশের পর থেকে, যখন আমি আমার পেশাগত কেরিয়ারের শীর্ষে ছিলাম, তখন পেশাগত ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের অনুষ্ঠান কিংবা মঞ্চ পরিবেশনা, যা সাধারণত মাচা শো নামে পরিচিত, সেগুলিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যার ফলে আমি প্রভূত আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। ২০২১ সাল থেকে মূলধারার কোনও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করার একটিও সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার পেশাগত জীবন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, আমি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তুলতে এবং স্বাধীন ভাবে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করতে বাধ্য হয়েছি।
এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, আমি কখনই আমার রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপোস করিনি, কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনের জন্য কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। আমি আমার বিশ্বাস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি আমার অঙ্গীকারে দৃঢ় ভাবে অটল থেকেছি। ২০২১ সাল থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কোনও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিইনি, এমনকী সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও, ওই দলের হয়ে প্রচার চালানোর জন্য অত্যন্ত লোভনীয় সুযোগের প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমার দলে যোগদানের দিন থেকে আমার দলের প্রতি আমার আনুগত্য ছিল অবিচল ও অটুট, এবং আজও তা একইভাবে অটুট রয়েছে।
একজন বিশিষ্ট জনব্যক্তিত্ব হিসেবে আমার পরিচিতি এবং জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে আমার ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কারণে, আমাকে নিয়মিত ভাবে বিশাল জনসমাবেশে উপস্থিত থাকতে হয় এবং এমন সব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়-যেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরোক্ত পরিস্থিতি এবং আমার জনপরিচিতি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ধারাবাহিক জন-উপস্থিতির প্রকৃতি বিবেচনা করে, আমি সরকারের কাছে বিনীত ভাবে নিবেদন জানাচ্ছি যে, আমার বিষয়টি সদয় ভাবে পর্যালোচনা করা হোক এবং আমার পেশাগত, সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মকাণ্ড চলাকালীন আমার নিরাপত্তার স্বার্থে একটি উপযুক্ত নিরাপত্তা বলয় পুনরায় বহাল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। আপনাদের সদয় বিবেচনার জন্য আমি কৃতজ্ঞ থাকব এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় যে কোনও অতিরিক্ত তথ্য বা নথিপত্র প্রদান করতে আমি সর্বদা প্রস্তুত।'
দেখা যাক এবার সরকার কী পদক্ষেপ নেয়!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

