জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যৌন হিংসা ও খুনে এনকাউন্টার বিচার হতে পারে না। এমনটাই বলছে ICJ। ২০১৯-এর ডিসেম্বরে তেলাঙ্গানা পুলিসের হাতে এনকাউন্টারে নিহত হয় ড. প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি (নাম পরিবর্তিত) ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত চারজন-ই। এক বিবৃতি পেশ করে সেই এনকাউন্টারের তীব্র নিন্দা করেই একথা বলেছিল ICJ।
২০১৯-এর ২৭ নভেম্বর পশুচিকিৎসক ডক্টর প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিস। ৬ ডিসেম্বর, পুলিস হেফাজতে থাকাকালীনই এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় ৪ অভিযুক্তের। বলা হয়, ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণের সময় পুলিসের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল ৪ অভিযোগ। আর তাই পুলিস তাদের গুলি করে হত্যা করে।
এই ঘটনাকেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা 'কাস্টডিয়াল এক্সিকিউশন' হিসেবে উল্লেখ করে আইসিজে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। যে প্রসঙ্গে আইসিজে এশিয়া-প্যাসিফিকের তৎকালীন ডিরেক্টর ফ্রেডরিক রওস্কি স্পষ্ট জানান, ডক্টর রেড্ডির ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধটি অত্যন্ত নৃশংস। যৌন সহিংসতার চরম রূপ। এই ধরনের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু পুলিস হেফাজতে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মেরে ফেলা কোনও সমাধান নয়।
আইসিজের তরফে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আদতে নির্যাতিতা ও তাদের পরিবারকে প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত করে। এই আচরণ উৎসাহ পেলে তা সামগ্রিকভাবে দেশের 'আইনের শাসন'-কে ধ্বংস করবে। পুলিসের 'বেআইনি' ক্ষমতা প্রদর্শন কখনওই নারীদের স্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারবে না। আইসিজে-র স্পষ্ট বক্তব্য, অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন, সভ্য সমাজে 'তাৎক্ষণিক বিচার' বা 'রাস্তার বিচার' কখনওই আইনের বিকল্প হতে পারে না। প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-ও সেই ঘটনার নিন্দা করে ঘটনার সত্যতা ও পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রসঙ্গত ভারত 'ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস' (ICCPR)-এর স্বাক্ষরকারী দেশ। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যার ক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ না থাকলেও রাষ্ট্র নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে বাধ্য। ভারতের সুপ্রিম কোর্টেরও এই নিয়ে নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে।
এনকাউন্টার ভুয়ো হলে কী হবে, সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশিকা বারুইপুরের পর ফের চর্চায়

