জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ঠিক তার আগেই বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত 'যুবসাথী' প্রকল্পের টাকা সরাসরি আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে গত শনিবার থেকেই।
একই সঙ্গে যারা এখনো টাকা পাননি বা ফর্মের স্থিতি (Status) নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য পোর্টালে যুক্ত হয়েছে নতুন বিশেষ সুবিধা।
কেন টাকা পেতে দেরি হচ্ছে?
যুবসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবেদনকারীর সংখ্যা। প্রায় ৮৪ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় আসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নথিপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। মূলত দুটি কারণে দেরি হচ্ছে-
প্রথমত,অফলাইন আবেদনের চাপ। যারা সরাসরি অনলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাদের তথ্য আগে থেকেই পোর্টালে মজুত ছিল। কিন্তু যারা বিভিন্ন সরকারি ক্যাম্প বা দুয়ারে সরকারে গিয়ে 'অফলাইন' বা কাগজের ফর্মে আবেদন করেছেন, তাদের সেই তথ্যগুলো এখন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে কম্পিউটারে তুলতে হচ্ছে। এই ম্যানুয়াল ডাটা এন্ট্রি-র কারণেই অফলাইন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগছে।
দ্বিতীয়ত, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর বয়স (২১-৪০ বছর), আধার কার্ডের তথ্য এবং তিনি অন্য কোনো সরকারি অনুদান (যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধু) পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করার পরই গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে। এই চুলচেরা বিশ্লেষণে সময় ব্যয় হচ্ছে।
কারা আগে টাকা পাচ্ছেন?
এখনো পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, অনলাইন আবেদনকারীরাই প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। যেহেতু তাদের তথ্য ডিজিটাল ফরম্যাটে আগে থেকেই সংরক্ষিত ছিল, তাই তাদের ভেরিফিকেশন দ্রুত শেষ হয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, অফলাইন আবেদনকারীদের তথ্য আপলোড হওয়ার সাথে সাথেই পর্যায়ক্রমে তাঁদের অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
Mamata Banerjee: গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে, বেশি কিছু করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব: মমতা
যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় কিছু কঠোর নিয়ম মানছে প্রশাসন। কয়েকটি জন্য আপনার আবেদন বাতিল বা পেন্ডিং হতে পারে। সেগুলি হল, আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কেউ আগে থেকেই 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' বা 'কৃষক বন্ধু' প্রকল্পের সুবিধা পান, তবে তিনি যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। আধার কার্ড বা অন্যান্য নথিতে তথ্যের গরমিল থাকলে টাকা পেতে দেরি হতে পারে।
আগে যুবসাথী প্রকল্পের স্ট্যাটাস চেক করার কোনো সরাসরি উপায় ছিল না। উপভোক্তাদের সুবিধার্থে পোর্টালেএখন 'ট্র্যাকিং অপশন' যুক্ত করা হয়েছে। আধার নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস খুঁজতে গেলে 'কয়েকদিন পর চেষ্টা করুন' বার্তা ভেসে উঠছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই সিস্টেমটি পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে যাবে এবং আবেদনকারীরা বাড়িতে বসেই নিজেদের আবেদনের স্থিতি জানতে পারবেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

