বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতে প্লাস্টিকের নোট চালুর বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে, শীঘ্রই প্লাস্টিকের নোট প্রচলন হতে পারে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে পলিমার নোটের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI (Reserve Bank of India) ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
কী পরিকল্পনা RBI (Reserve Bank of India)-র?
এই নোটগুলি কাগজের নোটের চেয়ে ভালো হবে: ওই রিপোর্টে সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, পাটনা ও মুম্বাইয়ে সম্পন্ন হওয়া RBI-এর শেষ ২ টি বোর্ড মিটিংয়ে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট প্রচলনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এই নোটগুলি কাগজের নোটের চেয়ে কম খরচে উৎপাদন করা যাবে এবং এগুলির স্থায়িত্বকাল দীর্ঘ ও নিরাপদ হবে। এই কারণে ওই নোটগুলি প্রচলন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি এই নোটগুলি ATM মেশিনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এর মানে হল, ATM মেশিনগুলি পলিমার বেসড নোট সরবরাহ করতে পারবে। সূত্র জানিয়েছে, এটি করার জন্য RBI-এর কাছে প্রয়োজনীয় সংস্থান রয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক পলিমার নোটের জন্য একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে। যা অদূর ভবিষ্যতে ঘোষণা করা হতে পারে।
কেন কাগজের নোট প্রতিস্থাপনের পদক্ষেপ: জানিয়ে রাখি যে, RBI-এর ২০২৫ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কাগজের নোট ছাপানোর খরচ আগের অর্থবর্ষের ৫,১০১.৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকা হয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল নোট ছাপানোর চাহিদা বৃদ্ধি। এছাড়াও, ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন ময়লা নোট প্রত্যাহার করা হয়েছে। যা গত বছর প্রত্যাহার করা ২১.২৪ বিলিয়ন নোটের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। সর্বাধিক সংখ্যক প্রত্যাহার করা নোট ছিল ৫০০ টাকার নোট। এরপরেই ছিল ১০০ টাকার নোট।
আচমকাই ভালুকের হামলায় ক্ষতবিক্ষত! কানাডায় মৃত্যু ভারতীয় মিক্সড মার্শাল আর্টের উঠতি খেলোয়াড়ের
উল্লেখ্য যে, রিপোর্ট অনুসারে, ডিজিটাল পেমেন্টের অব্যাহত বৃদ্ধি সত্ত্বেও নগদ অর্থের অব্যাহত চাহিদা দেখা গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মে পর্যন্ত প্রচলনযোগ্য মুদ্রার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৪২.৮৬ ট্রিলিয়ন টাকাতে পৌঁছেছে। ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দেড় মাসে বাজারে প্রচলিত মুদ্রার পরিমাণ ১.১৫ ট্রিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘ জল্পনার অবসান! ষষ্ঠবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছেন মেসি, দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার
রিপোর্টে কয়েন সম্পর্কে কী দাবি করা হয়েছে: কয়েনের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য RBI-এর প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। ২০২৪ অর্থবর্ষে কয়েনের সরবরাহ আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০২৫ অর্থবর্ষে ১.৫ বিলিয়ন হয়েছে। যাঁর মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি কয়েন ছিল ৫ টাকার এবং প্রায় ৪ কোটি কয়েন ছিল ২০ টাকার।

