পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক প্রচার এবার এক অনন্য এবং অদ্ভুত মোড় নিয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মাছ। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি-উভয় পক্ষই বাঙালির প্রিয় মাছকে নির্বাচনী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নববর্ষের সকালে দুই শিবিরের প্রার্থীদের হাতে মাছ নিয়ে প্রচার করতে দেখে কার্যত তাজ্জব বনে গেছেন সাধারণ মানুষ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ও বিজেপির পাল্টা কৌশল
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী জনসভাগুলোতে লাগাতার দাবি করছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মানুষের মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দোহাই দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটি ভয়ের আবহ তৈরির চেষ্টা করছে ঘাসফুল শিবির।
মমতার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণ করতে আসরে নেমেছে বিজেপি। কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং এক অভিনব পন্থায় এর জবাব দিয়েছেন। পয়লা বৈশাখের সকালে ঐতিহ্যবাহী ধুতি-পাঞ্জাবি পরে দুই হাতে দুটি বড় মাছ নিয়ে মিছিলে নামেন তিনি। তাঁর এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদের আশ্বস্ত করা যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হবে না, বরং বাঙালির সংস্কৃতি সুরক্ষিত থাকবে।
উন্নয়নের অভাব ও রাজনৈতিক আক্রমণ
মাছ নিয়ে প্রচারের ফাঁকেই রাকেশ সিং আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত ১৫ বছরে এই এলাকায় কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিদায়ী সরকার। তাই এলাকার মানুষ এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিজেপির পাশেই আছেন বলে তিনি দাবি করেন।
পাল্টাপাল্টি মাছ রাজনীতিতে সরগরম টলিগঞ্জ
মাছ নিয়ে প্রচারে পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। দক্ষিণ কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র টলিগঞ্জের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসও নববর্ষের দিন হাতে মাছ নিয়ে প্রচারে নামেন। তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হতে পারে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বিশ্লেষণ
বাংলার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে মাছ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবেগকে পুঁজি করতেই দুই দল এই পথ বেছে নিয়েছে। যদিও স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, মাছ খাওয়া বন্ধ করার বিষয়টি একটি রাজনৈতিক গিমিক মাত্র। সাধারণ মানুষের দাবি, মাছ নিয়ে লড়াইয়ের চেয়ে কর্মসংস্থান, উন্নত রাস্তাঘাট এবং প্রকৃত উন্নয়নের দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর বেশি নজর দেওয়া উচিত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘মাছ রাজনীতি’র ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাঙালির পাতের মাছ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মূল বিতর্ক: বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হতে পারে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি।
- বিজেপির জবাব: কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের হাতে মাছ নিয়ে অভিনব প্রচার।
- তৃণমূলের পাল্টা: টলিগঞ্জের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসও হাতে মাছ নিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন।
- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট টানার কৌশল।
- জনগণের দাবি: মাছ নিয়ে বিতর্কের চেয়ে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ।
The post বাংলায় ভোট প্রচারে এবার ইস্যু ইলিশ-রুই, মমতা ও বিজেপির মাছ রাজনীতি তুঙ্গে appeared first on বার্তা.in.

