Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ডেটলাইন: পর্ব ৫৬

ডেটলাইন: পর্ব ৫৬

Daak Bangla 2 weeks ago

বনলতা সেনের কাছে

নাটোরের সঙ্গে বনলতা সেনের কী সম্পর্ক, এর জবাব আমি অনেক খুঁজেও পাইনি। হৃদয়কাঁপানো প্রশ্ন, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?' উচ্চারণের জন্য কেন এক নাটোর-কন্যার ডাক পড়ল, সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগর, বিদর্ভ-বিদিশা-শ্রাবস্তী, জীবনানন্দর কবিতায় ভূগোলের সব পাঠ পেরিয়ে কেন বাংলার এক মফসসল শহর ক্লান্ত কবিকে দিল দু'দণ্ডের শান্তির ঠিকানা, জানি না।

তবু আমার মতো করে একটা ব্যাখ্যা তৈরি করেছি আমি।

যেহেতু আমি বাংলা সাহিত্যের গবেষক নই, তাই কেউ না-ই মানতে পারেন সেটা। বরিশাল শহরে জীবনানন্দের পৈতৃক ভিটে 'সর্বানন্দ ভবন'-এর খোঁজ করতে গিয়ে শুনেছিলাম, তাঁর পিতামহ নাকি নাটোরের রানি ভবানীর কাছ থেকে বাড়িটি কিনেছিলেন। সেই বাড়ির জমিটুকু ছাড়া অবশ্য আর কিছুই অবশিল্প নেই। দীর্ঘকাল আগে হাতবদলের পর এত বছরে ভোল পাল্টে তো গেছেই, তবে ভাল লাগল দেখে, জীবনানন্দ-প্রেমী মালিকেরা নাম রেখেছেন 'ধানসিড়ি'। আমার ধারণা, ছেলেবেলা থেকে বাড়ির আদি মালিকের গল্প শুনে নাটোরের প্রতি জীবনানন্দের একটা অন্তর্লীন টান তৈরি হয়েছিল। হয়তো রানি ভবানীকে নিয়ে একটা ফ্যান্টাসিও তৈরি হয়েছিল কিশোরের মনে। হতেই পারে।

রানি ভবানী সম্পর্কে অনেক কিংবদন্তি চালু আছে। তাঁর জীবনকাহিনিও কম রোমহর্ষক নয়। সেই অষ্টাদশ শতকে এক ছোট রাজ্যের রানি দেশজোড়া খ্যাতি পেলেন শুধু নিজের গুণে। মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে স্বামী মারা যাওয়ার পর নবাব আলিবর্দি খাঁ রানি ভবানীকে দিলেন রাজশাহীর এই বিশাল জমিদারি চালানোর দায়িত্ব। নামে রানি হলেও তিনি নাকি থাকতেন সাধারণ বিধবার বেশে। সেই আমলে যে জমিদারির বছরে রাজস্ব ছিল পায় ১৫ লক্ষ টাকা, সেটি চলত এক যুবতীর অঙ্গুলিহেলনে, ভাবাই যায় না! তবে বৈভবের কারণে নয়, দানধ্যানের কারণে তাঁর সামনে রানি বলে মাথা নত করত প্রজারা, সেই গল্প আজও লোকমুখে ফেরে নাটোরে। আর ফেরে 'বনলতা' নামটা। যদিও জীবনানন্দ দাশ কখনও নাটোরে এসেছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না, তবু তাঁর কবিতার কল্যাণে বনলতা এই মাঝারি মাপের শহরের সর্বত্র ছেয়ে আছে। বনলতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বনলতা সেলুন- কী নেই! এমনকী, মিষ্টান্ন ভান্ডার আর সাইকেল সারাইয়ের দোকানেও দেখেছি সাইনবোর্ডে বিরাজমান কবির মানসী। জানি না, পৃথিবীর আর কোথাও কোনও কল্পনার নারী এমন মর্যাদা পেয়েছেন কিনা আমজনতার কাছে।

জীবনানন্দর বাড়ি, ধানসিড়ি নদী ও ওপার বাংলা!
পড়ুন 'ডেটলাইন' পর্ব ৫৫…

চলনবিল

২০০৮ সালে যে নাটোরে আমি গিয়েছিলাম ট্রাভেল শোয়ের শ্যুটিং-এ, তার সঙ্গে ২০২২ সালে ফের দেখা নাটোরের তফাত আকাশপাতাল বললেও কম বলা হয়। পরের বারের যাওয়াটা সরকারি আমন্ত্রণে, এপার বাংলার শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-সাহিত্যিক দলের সফরসঙ্গী হয়ে। আগেরবার মনের আনন্দে চলনবিলের অথৈ দলে নৌকো চড়েছি, মিষ্টির দোকানের কাঠের বেঞ্চে বসে নাটোরের বিখ্যাত ক্ষীরতক্তি আর কাঁচাগোল্লা খেয়েছি, রিক্সাওয়ালার সামনে বুম ধরে পশ্ন করেছি, বনলতা সেনকে চেনেন? পরের বার সরকারি প্রোটোকলে বাঁধা সফর, বিদেশি অতিথিদের জন্য নিরাপত্তা খুবই কঠোর। পাইলট কার থেকে নিরাপত্তারক্ষী, সফরসূচি মেনে যেখানে নিয়ে যাবে, সেখানেই যাব। কনভয়ে মন্ত্রীদের গাড়ি থাকায় আরও আঁটোসাটো ব্যবস্থা। চোদ্দ বছরের ব্যবধানে নাটোরও বদলে গেছে আমূল। তবে আমি গাড়ির জানালা দিয়ে দেখেছি আর দেখে খুশি হয়েছি যে, বনলতা হারিয়ে তো যানইনি, বরং আরও বেশি করে বিরাজমান বুটিক, ক্যাফের সংযোজনে। বাংলাদেশ-সুলভ ন্যূনতম ১৫ কোর্সের সরকারি লাঞ্চ টেবিলে দেখলাম নাটোরের কাঁচাগোল্লা আছে, সঙ্গে বগুড়ার বিখ্যাত দই। এই কাঁচাগোল্লা কিন্তু কলকাতার মতো গোল্লা পাকানো নয়, বরং বসিরহাটের মাখা সন্দেশের মতো। এমনি কৌতূহলে জিগ্যেস করলাম, 'এখন আর ক্ষীরতক্তি পাওয়া যায় না?' মন্ত্রী অবাক হয়ে তাকালেন, 'আপনি জানেন? এখন খুব কম দোকানে করে। কিন্তু আপনাকে তো খাওয়াতেই হবে।' আমি লজ্জা পেয়ে 'না, না' করতে লাগলাম, কিন্তু মন্ত্রীমশাইয়ের মুখ থেকে কথা বেরনোমাত্র ক'জন আমলা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ক্ষীরতক্তির খোঁজে। এবং বিকেলে সেই ক্ষীরতক্তি সবার ভাগ্যেই ফুটল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট একেবারেই বদলে গেছে ২০২৪ সালের অগাস্টের পর। কিন্তু সেই ২০২২ সালে কমবয়সি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র হওয়ার সুবাদে নাটোরের যে ঝাঁ-চকচকে রূপ দেখেছিলাম, আজও ভুলিনি। নাটোরে দু'টি রাজবাড়ি। একটা রানি ভবানীর আর একটা দীঘাপাতিয়া, যেটা পরে হয়েছে সরকারি বাসস্থান, উত্তরা গণভবন। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী নাটোরে এলে থাকেন সেখানে। সেই অসাধারণ রাজকীয় ব্যাকড্রপে বাগানের মাঝখানে মঞ্চ তৈরি করে যে আন্তর্জাতিক মানের লেজার শো দেখালেন মন্ত্রী, তাক লেগে গেল। মুক্তিযুদ্ধ থেকে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা, ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল, সেই অডিও-ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন। আর দুই বাংলার নামী শিল্পীদের যে লাইভ পারফরমেন্স, তা তো জমজমাট হবে, জানা কথাই। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী নিয়ে ঠান্ডা ঘরের গুরুগম্ভীর সেমিনারকে ব'লে-ব'লে দশ গোল দিতে পারে সেই খোলা হাওয়ার সঙ্গে, হলফ করে বলতে পারি।

 নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা

দুপুরেই সবাই মিলে ঘুরে এসেছি নাটোর রাজবাড়ি মানে রানি ভবানীর রাজবাড়ি। ১৭১০ সালে তৈরি করেছিলেন রাজা রামজীবন, রানি ভবানীর শ্বশুরমশাই। জলাজমি ভাতঝরার বিলকে সেই আমলে কেমন করে রাজশাহী রাজ্যের রাজধানী বানালেন তিনি, কে জানে! রাজধানীর নামটিও দিলেন চমৎকার, নাটাপুর। সেখান থেকেই নাকি নাটোর। এখানেই পরে দাপটে রাজত্ব করলেন তাঁর পুত্রবধূ রানি ভবানী, যাঁকে সমীহ করে লোকে বলত, অর্ধবঙ্গেশ্বরী। তিনি যখন হাতির পিঠে চেপে মন্দিরে যেতেন, দু-পাশে প্রজারা জয়ধ্বনি দিত। পরিখা দিয়ে ঘেরা প্রায় ১২০ একর জায়গা জুড়ে গথিক স্থাপত্যের প্রাসাদ ছাড়াও বাগান, দীঘি, মন্দির, শ্বেতপাথরের মূর্তি রাজকীয় বৈভবের চিহ্ন ছড়ানো চারপাশে। বড় তরফ আর ছোট তরফ, দুটো ভাগ আছে বাড়ির। গোটাসাতেক বাড়ি আছে এই চৌহদ্দিতে। রানি ভবন, কাছারি ভবন, মধু রানি ভবন, অতিথিশালা- এরকম সব। কিন্তু মূল বাড়িটা আর তিনটে মন্দির বেশ সাজানোগোছানো হলেও বাকিগুলো ভাঙাচোরা। একটা তো দেখলাম ধ্বংসস্তূপ, বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দিরের সরু ইটের মতো ইট পড়ে আছে চারধারে। বিকেলের কনে দেখা আলোয় সেখানে দুর্দান্ত ফটোসেশন হয় অবশ্য।

যদিও লেখাটা উল্টোপথে হাঁটছে বনলতা সেনের সম্মানে, আমরা কিন্তু দেশ ছেড়ে প্রথমে এসেছিলাম রাজশাহী। সেই আসাটাও খুব রোমাঞ্চকর। অন্য সময় ঢাকা থেকে প্লেনে এসেছি রাজশাহী। এবার বিশাল দলবলের সঙ্গে ঢুকলাম মালদার মোহদিপুর স্থলসীমান্ত দিয়ে। মোহদিপুর বোধহয় একসঙ্গে এত সেলিব্রিটি দেখেনি কখনও। আসলে এ-পথে পণ্যবাহী গাড়ির যাতায়াতই বেশি। অভিবাসন দপ্তর বলে ভারতের দিকে যা আছে, গাছগাছালি-ঘেরা একতলা কাঠামো হলেও সেটার তবু একটা অফিসিয়াল চেহারা আছে। কিন্তু বাংলাদেশের দিকে প্রায় কুঁড়েঘরে বসে আছেন ইমিগ্রেশন কর্মীরা। তার মধ্যে এপারের সিনেমা-সিরিয়াল-গানবাজনা-সাহিত্যের চেনামুখ দেখে আরও ঘাবড়ে গেছেন ওরা। ফলে দু-পারেই এত বেশি সময় লাগল পাসপোর্ট-ভিসা চেকিংয়ে যে অধৈর্য হয়ে পড়ছিল সবাই। তার থেকে বেশি অধৈর্য অবশ্য ওপারে অপেক্ষায় থাকা আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে আসা শ'খানেক মানুষ। উত্তেজনায় হাঁকডাক করতে-করতে একটু পরে-পরেই তাঁরা ফুল-মালা হাতে ঢুকে পড়ছেন নো ম্যানস ল্যান্ডে আর আমাদের বিএসএফ ছুটে যাচ্ছে, বাংলা-হিন্দি মিশিয়ে সতর্ক করছে। মনে পড়ল, একবার বাংলাদেশে আমাকে একজন বলেছিলেন, 'বর্ডারে আপনেরা বাঙালি বিএসএফ রাখেন, দ্যাখবেন সমস্যা কম অইব। বিহারীরা তো আমাগো ভাষাই বোঝে না। ওইজন্য ঝামেলা পাকায়।'

  নাটোরে রানি ভবানীর রাজবাড়ি
ও নাটোরে দীঘাপাতিয়া রাজবাড়ি

যাই হোক, দুপুর গড়িয়ে আমরা যখন সত্যিই ওপারে পা রাখলাম, ছুটে এল জনতা, আক্ষরিক অর্থে বুকে টেনে নিল। কেউ মালা পরাচ্ছে, কেউ গোলাপ দিচ্ছে, কেউ সেলফি তুলছে। আবেগের পারা একটু স্থির হলে বিরাট একটা বাসে ‘উঠলাম আমরা। প্রথমেই দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা। তারপর রাজশাহী শহর, যেখানে আগামী দু'দিন ঠাসা প্রোগ্রাম।

পদ্মাতীরে রাজশাহীকে বলা হয় আধুনিক বাংলাদেশের এডুকেশন হাব। ঐতিহ্যশালী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, এছাড়া অনেক নামকরা পুরনো ও নতুন স্কুল-কলেজ আছে। যে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে আমাদের অনুষ্ঠান, তার বয়স প্রায় দেড়শো বছর। একসময় বাংলা, বিহার, অসম থেকে ছেলেরা পড়তে যেত সেখানে। রাজশাহী বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত শহরের তকমা পেয়েছে। সেই সময়কার মেয়রের সঙ্গে আলাপ হল, খুব কাজের মানুষ। আমাদের উপহার দিলেন, রাজশাহী শহরের পেন্টিং। সবাইকে রাজশাহীর বিখ্যাত সিল্কের শাড়িও উপহার দিয়েছেন এক এমপি। সেটা পেয়ে বিপদ বাড়ল, কারণ এত নরম, এত হালকা সেই শাড়ি যে, বাড়ির লোকের জন্য নিয়ে যেতে হবে, বায়না ধরল নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দলের সবাই। হোটেলের সামনে সার সার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, যাওয়া যেতেই পারে, কিন্তু বিদেশী অতিথিদের এক পাও নড়াতে গেলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতি লাগবে। অনুমতি আসতে সময় লাগল না বেশি, কিন্তু আছে পাইলট কার, পিছনে পুলিশের গাড়ি নিয়ে কনভয় করে শাড়ি কিনতে যাওয়া ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি মনে হল। কী আর করা যাবে!

একটা ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়াতে সঙ্গের একজন হঠাৎ বলে উঠল, 'ওই তো দোকানে আমসত্ব। আমার মা বলে দিয়েছে, রাজশাহী থেকে পারলে আমসত্ব আনিস। ছোটবেলায় খেতাম।' আমরাও হইহই করে উঠলাম, 'কিনব, কিনব।' সামনের সিট থেকে ঠান্ডা গলায় বললেন সরকারি অফিসার, 'সম্ভব না। সর্বোচ্চ প্রোটোকলে আছেন।'

 নাটোরে বনলতা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়

এই সর্বোচ্চ প্রোটোকলের বেড়া একবারই ভেঙেছিল সে-যাত্রায়। তাহেরপুরে দুর্গা মন্দিরে ভিড়ের চাপে। পুলিশ সে জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সেলিব্রিটিদের রিফ্লেক্টেড গ্লোরিতে আমাদের সবার ওপর পুষ্পবৃষ্টি হল গ্রামের পথে, একশো গাঁয়ের বধু শঙ্খধ্বনি করলেন পাশের দেশের অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে।

তবে নিরাপত্তা বেষ্টনী কাকে বলে, দেখেছিলাম রাজশাহী কলেজের মাঠে। রাত এগারোটায় হাজারদশেক লোক, তখনও অপেক্ষায়, আসবেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। দেখলাম, ওপারে ক্রেজ আরও বেশি। ঋতুপর্ণা এলেন, কিন্তু ভয়ে নামলেন না গাড়ি থেকে। মবড হয়ে যাবেন। পুলিশ কর্তা অভয় দিলেন। নায়িকাকে বসালেন প্রিন্সিপালের বাংলোয়। তারপর রীতিমতো হাতে হাত ধরে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে নিয়ে গেলেন মঞ্চে। জনতার উল্লাসে তখন কান পাতা দায়। সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেচে একেবারে মাত করে দিলেন ঋতুপর্ণা। সঙ্গে নাচল আট থেকে আশি দর্শক।

এই রাজশাহীতেই আমি প্রথম দেখি ইনফিনিটি পুল। হোটেলের চোদ্দো তলার ওপর 'মহীনের ঘোড়াগুলি'-র সেই গানের মতো 'আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি' সুইমিং পুল। আবছা ফাইবার গ্লাসের বেড়ায় মনে হয়, সাঁতরে বুঝি এই নীল থেকে ওই নীলে পৌঁছে যাব। সেখানেই প্রায় মধ্যরাতে এক হোটেলকর্মী অরেঞ্জ জুস দিতে এসে বললেন, 'আপা, ওপারে যে আলো দ্যাখেন, ওটা কিন্তু ইন্ডিয়া, আপনের দ্যাশ।'

ওদের পদ্মা, আমাদের গঙ্গা, ওদের রাজশাহী, আমাদের মুর্শিদাবাদ, মাঝের রেখাটা ম্যাপে দেখা যায়, ভাগ্যিস খালি চোখে নয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Daak Bangla