আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের দাম লাগাম ছাড়া (Fuel Price Rise)। আর তার সরাসরি প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেল আমেরিকার জনপ্রিয় বিমান সংস্থা 'স্পিরিট এয়ারলাইনস'(Spirit Airlines)। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বিমান শিল্পে তৈরি হয়েছে বড়সড় উদ্বেগ, আর বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও কর্মী।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দু’দফা দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেও শেষরক্ষা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের আর্থিক অবস্থাকে চূড়ান্তভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ফলে বাধ্য হয়েই সব ধরনের ফ্লাইট (Spirit Airlines) পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।সংস্থার প্রধান নির্বাহী ডেভ ডেভিস জানান, ব্যবসা সচল রাখতে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুনঃ১৫,৬৬০ কোটির চুক্তিতে রাজস্থান রয়্যালসকে কিনে নিল মিত্তাল পরিবার ও আদর পুনাওয়ালা
সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিমান সংস্থাগুলির জ্বালানি খরচে। JP Morgan Chase-এর বিশ্লেষণ বলছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বছরের শেষে স্পিরিটের খরচ আরও ৩৬০ মিলিয়ন ডলার বাড়ত। এদিকে সংস্থাটিকে বাঁচাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেইল আউট প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি প্রয়োজনে সরকার সংস্থাটির বড় অংশীদার হওয়ার ইঙ্গিতও ছিল। কিন্তু ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে বন্ডহোল্ডারদের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ‘স্পিরিট এয়ারলাইন্স’ বন্ধ হওয়ার ফলে প্রায় ১৪০০০ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়াও, যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

