নিজস্ব প্রতিনিধি: সোমবার সন্ধ্যার পর প্রবল কালবৈশাখীর দাপটে তছনছ হয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে বহু এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। তবে দুর্যোগ এখানেই শেষ নয়, মঙ্গলবার নতুন করে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ বুধবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আরও জোরালোভাবে বাড়তে পারে কালবৈশাখীর প্রভাব।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ওড়িশা ও সংলগ্ন অঞ্চলের উপর একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার যৌথ প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে অস্থির আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, শহরে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস
৮ ও ৯ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রঝড় ও ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়া খারাপ থাকবে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং ও কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ২৪ পরগনায় ৮১ কিমি বেগে ঝড় রেকর্ড হয়েছে এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রঝড়ের সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, গাছের নীচে বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি না যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের আগামী ২৪ ঘণ্টা সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

