নিজস্ব প্রতিনিধি: শিল্পে নতুন বিনিয়োগ টানতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। সেই বার্তাই বস্ত্র শিল্প সন্মেলনের মঞ্চ থেকে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ বৃহস্পতিবার (৬ অগস্ট) মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্র শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, গত তিন মাসে রাজ্যের সামগ্রিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
শিল্পের বিকাশে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং শিল্পপতিদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘রাজ্যে কোনও ধরনের গুন্ডাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।’
পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, একসময় তোলাবাজি ও কাটমানির সংস্কৃতি শিল্পের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেই কারণেই বাংলা উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে ছিল। তাঁর আশা, ‘এই বস্ত্র শিল্প সম্মেলনের মাধ্যমে অন্তত ৫০০ থেকে ১,০০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং রাজ্যে শিল্পোন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলবে।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘রাজ্যে প্রতিদিন নতুন শিল্প প্রকল্পের ভূমিপুজো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘লাক্স কোজি ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ করেছে এবং আমূলও বাংলায় এসেছে।’ সংস্থাটি রাজ্যে মিষ্টি দই ও আইসক্রিম উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্মলা সীতারমণ বিশেষভাবে চা শিল্প ও বস্ত্র শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে ভাবছেন। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফরের কথাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বাংলার টেক্সটাইল শিল্পের জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। টেক্সটাইল শিল্পের প্রসারে প্রয়োজন হলে আইন পরিবর্তন করতেও সরকার প্রস্তুত বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের পথে কোনও প্রশাসনিক বাধা রাখা হবে না, শিল্পের স্বার্থে যা প্রয়োজন সরকার তাই করবে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দ্রুত বাংলায় এসে উন্নয়নমূলক প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে এখানকার দক্ষ মানবসম্পদ, সংস্কৃতি এবং ব্যবসার সম্ভাবনা রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি কলকাতাকে 'সিটি অফ জয়' এবং দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বলেও উল্লেখ করেন।

