Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো অযৌক্তিক ও মতলবী

অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো অযৌক্তিক ও মতলবী

ন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো অযৌক্তিক ও মতলবী

অমিত গোস্বামী

অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে গুজবঃ

বাংলায় তৃণমূলের এখন লাটপাট দশা। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বামপন্থীরা। পিছনে আবার কংগ্রেস দোসর। বিজেপি সরকারের প্রথম উদ্যোগ অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিল আপ নিয়ে অহেতুক গুজব ছড়াচ্ছেন সোশাল মিডিয়ায়, বিবৃতি দিয়ে ও পত্রাঘাতে।

মূল বিরোধী দল যদি কিছু বলত, তবু গুরুত্ব দেওয়া যেত। তবু কিছু বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সাধারন মানুষের মধ্যে এই অবান্তর প্রচারে তার জন্যে এই প্রসঙ্গের অবতারনা।

অন্নপূর্ণা ভান্ডার কী ও কেন?

১) এই প্রকল্প নারী সশক্তিকরণের অঙ্গীভূত একটি প্রকল্প। শুধু ২৫ থেকে ৬০ বছরের নারীরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

২) এই প্রকল্প চালু হবে ৩ জুন থেকে।

৩) সম্ভাব্য টাকার পরিমাণ ৩০০০ টাকা।

৪) আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে।

৫) ১২ পাতার ফর্ম যা মূলত টিক অর্থাৎ হ্যাঁ বা না উত্তরে সীমাবদ্ধ।

৬) সরকারি চাকরিজীবি, পেনশনভোগী ও আয়করদাতারা এই প্রকল্পের বাইরে।

৭) DBT মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।

৮) অফিসিয়াল পোর্টাল socialsecurity.wb.gov.in থেকে ফর্ম ডাউনলোড করা যাবে।

৯) অফলাইন ফর্ম জমা দেওয়ার স্থান - ক্যাম্প, ব্লক অফিস বা নির্দিষ্ট সরকারি অফিস।

১০) আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। যাদের এসআইআর - নাম বাদ গেছে কিন্তু ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন অথবা CAA তে আবেদন করেছেন, অথচ সিদ্ধান্ত হয়নি, তারাও আবেদন করতে পারবেন। এসআইআর বা CAA তে নাগরিকত্ব পেলে এই প্রকল্প আপনার ক্ষেত্রে চালু হয়ে যাবে।

১১) আগে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পেতেন, তাদেরও এই প্রকল্পে সুবিধা পেতে হলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্ম ফিলাপ করতে হবে।

১২) যদিও এই ফর্ম ফিল আপ খুব সোজা তবু যারা অনলাইনে বা অফলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন না তাঁদের চিন্তার কিছু নেই। ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন বিজেপি এলাকায় এলাকায় জনকল্যাণ শিবির করবে। সেখানে গিয়েও যারা ফর্ম পূরণ করতে পারেননি তাঁরা সাহায্য পাবেন।

আমার সকল তথ্য দেব কেন?

১) আপনার অর্থনৈতিক অবস্থার সকল তথ্য আপনাকে ব্যাঙ্ককে দিতে হয়। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়নি। অর্থনৈতিক প্রকল্পের জন্যে সকল অর্থনৈতিক তথ্য রাজ্য সরকার চাইলে আপত্তি কোথায়?

২) এই তথ্য ভান্ডার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। মনে করা যাক যে আপনার বয়েস এখন ৫৭। তিন বছর বাদে এই প্রকল্পের অর্থ প্রাপ্তি আপনার বন্ধ হয়ে যাবে। তখন এটা স্বাভাবিক নিয়মে কনভার্ট হবে বার্ধ্যক্য ভাতা প্রকল্পে।

৩) স্বামীর বিশদ তথ্য এই জন্যে জানতে চাওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে কারোর স্বামীর মৃত্যুর পরে যখন কেউ বিধবা ভাতা চাইবেন তখন এই তথ্যের রেফারেন্সে শুধু স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিলেই চলবে।

৪) প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা আপনি এতদিন পাননি। এবার আবেদন করতে চান তার জন্যে এই তথ্যের রেফারেন্সের ভিত্তিতে বাকি প্রমানপত্র জমা দিলেই চলবে।

এককথায় আপনার সমগ্র অর্থনৈতিক তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে যাতে বিভিন্ন প্রকল্পের যোগ্য প্রার্থীরা তার সুবিধা পান। কোন রাজনৈতিক কর্মী বা কোন নেতা আপনাকে কোন প্রকল্পের অনৈতিক সুবিধা দিতে পারবেন না। তারা বড়জোর আপনার ফর্ম ফিল আপে সাহায্য করবেন মাত্র। আপনি যে কোন প্রকল্পের শর্ত পূরণ করলে আপনি আপনার টাকা সময়েই পাবেন। ফর্ম দেরিতে জমা দিলে আতঙ্কিত হবেন না। টাকা মার যাবে না। দেরিতে জমা ফর্মের টাকা জমা দেওয়া ও এন্ট্রির পরেই ঢুকবে।

অন্নপূর্ণা যোজনায় এত যাচাই কেন?

ইতিমধ্যে ২৭ লক্ষ লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তার নাম বাদ পড়েছে যাদের মধ্যে ছিলেন পুরুষ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, ২৫ বছরের নিচে থাকা মহিলা, আয়করদাতা, পেনশনভোগী, সম্পত্তি থেকে আয় করা মহিলা। অর্থাৎ প্রতি মাসে ২৭০০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকার স্রেফ রাজনৈতিক কারণে লক্ষীর ভান্ডার নামে দান-খয়রাত করেছে। গত ৫ বছরে লক্ষীর ভান্ডারে কমপক্ষে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উড়িয়েছে অপাত্রে দান করে। অথচ শিক্ষা খাতে বাৎসরিক বরাদ্দ ছিল ৬৫২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষীর ভান্ডারের সাড়ে চার ভাগ। মাদ্রাসা শিক্ষা বরাদ্দ ছিল অনেক বেশি। সে'প্রসঙ্গে নাই বা গেলাম।

লক্ষ্মীর ভান্ডারের কেলেংকারিঃ

ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার নেওয়ার অপরাধে যারা অভিযুক্ত হয়েছে তার হল মুর্শিদাবাদের রাকিবুল শেখ, মুস্তাফিজুর রহমান, চন্দ্রকোনার উত্তম সাউ, গৌতম দন্ডপাট, রিষড়ার বিজয় সাউ। এরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের কর্তা। আরো প্রচুর লক্ষীর ভান্ডার গ্রহণকারী নারায়ণ পুলিশের পুজো পাওয়ার অপেক্ষায়। খুব ভালোভাবে ভাবুন যে আমার আপনার করের টাকা রাজ্য সরকার কীভাবে এক অপরাধ চক্র মসৃণ ভাবে চালাত। এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কেন বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ছাঁকনি প্রয়োগ করবে না বলতে পারেন? মানুষকে ভড়কে লাভ নেই। লোকাল কমিটি বা সিন্ডিকেটের দাদাদের এড়িয়ে মানুষের যোগ্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যে মানুষ বিজেপি'কে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কাজেই মানুষের অধিকার এই প্রশাসন ফেরাতে বদ্ধপরিকর।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: IBG News Bangla